কবিতা

দুঃখ খাতা

নিবেদিতা ঘোষ মার্জিত

সব লোকেরই একটা দুঃখ লেখার খাতা আছে।
গোটা গোটা অক্ষরে লেখা কিছু পাতা।
অই দুঃখগুলো নরম রোদে লেখা।
সেগুলো দেখানো যায়।
অন্য লোকেরা দেখতে পায়।
বুঝতেও পারে।
আর কিছু পাতায় হিজিবিজি লেখা থাকে।
অন্য লোকে যাতে জানতে না পারে।
ওগুলো জ্বরের ঘোরে লেখা।
তারপর অই হিজিবিজি গুলো লোকে একা একা লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ে।
প্রতিবার তার অন্য মানে হয়।
প্রতিবার খুব নবীন কষ্ট পায়।
অন্যরা কষ্টের কারণ বুঝতে চাইলে অই গোটা গোটা অক্ষরের দুঃখ দেখিয়ে দেয়।
তারপর… আবার খাতা ভরে ওঠে। হিজিবিজি লেখায়।

যে চলে যায়

কেউ কেউ দাগ রেখে চলে যায়।
অই যে বিছানার চাদরে এলোমেলো ভাঁজ।
চায়ের কাপের তলানিতে পড়ে থাকা কয়েক ফোঁটা চা।
পায়ের পাতার দাগ রোজ দিনের ব্যাবহারে ক্ষীণ চটির ওপর।
কিন্তু কেউ কেউ চলে গেলে কোন দাগ থাকে না।
যেমন চাঁদের আলো পড়েছিল জানালার কানায়।
এক ঝটকা মাধবী লতার গন্ধে আকুল হল মন।
কিন্তু দাগ থাকে না।
কিন্তু ছিল সে… নাকি তারা…অই তো কারা যেন চলে যায়…
আসলে ঘর আগের মতই ফাঁকা থাকে।

1 thought on “কবিতা

  1. “যে চলে যায়” সাধারণ ও খুঁজে পাওয়া কিছু ভালো দাগ দিয়ে ছবি টা সুন্দর কবিতা হয়ে উঠেছে। বেশ ভালো লাগলো।
    “দুঃখ খাতা” হয়তো সাধারণ জীবনের বাস্তব বলতে চেয়েছেন। যা অনেক সময় ছবির মতো সুন্দর হয় না। ভালো লাগলো।
    পরের সংখ্যায় পড়ার জন্য আগ্রহ রাখছি।

Leave a Reply to Anonymous Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *