আ্যলেক্সা
অনিতা ঘোষ
“খুলযা সিমসিম” পরপর তিনবার শব্দটা উচ্চারন করে আলিবাবা। ঘরঘর শব্দে উন্মোচিত রত্নগুহার দ্বার। দেবস্থান গ্রহ থেকে পুরো ব্যাপারটাই লক্ষ্য করছিলেন বিষ্ণু। সাউন্ড রিকগনিসন আ্যলগোরিদমটা এই শতাব্দীতে বোগ্দাদের মাটিতেই থাকবে। মানবজাতি যদি রাখতে পারে তাকে ভাল, নয়তো পরবর্তীতে সেটি চলে যাবে অন্য প্রান্তে। আপাতত নিশ্চিন্ত তিনি। নিজের প্রিয় বডি ল্যাঙ্গোয়েজ এক্টিভেটেড শয়নকক্ষের দিকে এগোন । অঙ্গুলীহেলনে তাঁর মনকে পড়ে নেয় ইমোশন সেন্সার, সমুদ্রের ফেনিল নীল তরঙ্গঊর্মি, তার উপর অতিকায় এক সর্প। বিষ্ণুর প্রিয় শয্যা। স্বস্তির চোখ বোজেন তিনি। টাইম ট্রাভেল বলে কথা। ঘুম ভেঙে উঠতে পেরুবে কয়েক শতাব্দী। মধ্যের সময়টুকু মহাকালের জিম্মা হারুণ অল রসিদের দেশের ধূলো উড়ে এসেছে সূদুর মার্কিন মুলুকে। মাঝে কটা শতাব্দী অতিবাহিত, মানুষ হেলায় ধ্বংস করেছে তার জ্ঞান আবার গড়েছেও। সোনালী রিমলেস চশমার আড়ালে ঝকঝকে চোখের তরুন। সে বসে আছে মার্কিন মুলুকের ঝাঁ চকচকে অন্যতম প্রধান একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায়। সাউন্ড রিকগনিশন আ্যলগোরিদমের ফাইনাল ডেমোর সব প্রস্তুতি শেষ। স্বস্তির কফির চুমুকে ফুটে বেরোচ্ছে তারুন্য তথা সাফল্যের কনফিডেন্স। শিষ দিতে দিতে ড্রাইভ করতে করতে এগোয় বাড়ির দিকে জীষ্ণু।জলদি ডিনার সেরে গা এলিয়ে দেয় বিছানায়। কোয়াক্ কোয়াক্ কোয়াক্, কর্কশ এলার্ম বেজেই চলেছে। আরে ইস্, অনেক দেরী হয়ে গেল।আজকেই ফাইনাল ডেমো। ধড়মড়িয়ে উঠে বসে তড়িঘড়ি ল্যাপটপে চালায় ফাইনাল সেট আপটা। বহুদূরের দেবস্থান গ্রহয় শুধু পিং করে বাজল মোশন সেন্সার, বিষ্ণুর মিটিংয়ের ইনভিটিশন আজ মহাকালের সাথে। ছকে ফেলা হবে পরবর্তী কর্মসূচী। এদিকে পৃথিবীর প্রান্তে, জীষ্ণু বলে ওঠে, “আ্যলেক্সা, প্লে।”

গল্পটা পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো