মন ভালো করার দায় আমারো
সঞ্চারী আচার্য
মানুষ কতো অদ্ভুত হয় , তাইনা! একটা হাসিমুখের আড়ালে একবাক্স দুঃখ আড়াল করে রাখে কেউ, আবার কেউ দুঃখটাকে পন্য করে অন্যের সহানুভূতি কুড়ায়! আসলে কেউ অন্যকে আর কেউ নিজেকেই বেশি ভালোবাসে ! সবাই জিগ্যেস করে কেমন আছো… কিন্তু সত্যিই কি আমরা কারুর দুখভরি কাহানী শুনতে চাই , সময় ও আন্তরিকতা দুটোরই বড়ো অভাব আজকালকার জীবনে!
অনেক সময় একটু অন্যের সমস্যার কথা শুনে বা তাকে একটু পজিটিভ কথা বলেও কিন্তু অনেককে আমরা মন ভালো করে দিতে পারি , এটুকু সময় নষ্ট করার মতো সময় আমাদের সবারই আছে
দৃষ্টি
কিছু কিছু মানুষের ওপর যেমন দিনকে দিন অশ্রদ্ধা বাড়ছে, তেমনি কিছু মানুষের ওপর শ্রদ্ধা বাড়ছে … সে হতেই পারে তারা সমবয়সী বা বয়সে ছোট! আসলে বয়স নয়, কাজ ও ব্যবহারই মানুষকে ভগবান বা শয়তান বানায়
খুশি
তোমার হাসিমুখ খুব কম লোককেই আনন্দ দেয়, বেশিরভাগ মানুষই তুমি ভালো নেই এটা দেখেই খুশি হয়! তবে ঐ যে মুষ্টিমেয় লোক তোমার চোখের জল দেখতে পারেনা … তাদের জন্যই বেঁচে থাকা যায় গোটা জীবন… সানন্দে
লক্ষ্য
একটা সুন্দর দিনের অপেক্ষায় রোজ দিন শুরু করি ! অনেক আশা , অনেক প্রত্যাশা, অনেক প্ল্যানিং নিয়ে শুরু করলেও দিনের শেষে দেখি ৭০%ও করতে পারিনি, তবু আমরা রোজ নতুন উদ্যমে নতুন দিন শুরু করি , নতুন কিছুর জন্য….আসলে ঐ ৩০% যে পেরেছি , ওটাই আমাদের চালিকা শক্তি !
প্রচেষ্টা
আসছে আবার সেই ঝরা পাতার দিন ! এই সময়টা মন খারাপ হয় ঠিকই , আবার পাতার রঙের বাহার দেখে মনে হয় অনেক কিছু ! হ্যাঁ এই বয়সে এসে মানুষ হয়তো একটু বেশিই ভাবে, তায় আমি তো আবার ভাবাতে পি এইচ ডি করা
! যাক কথায় ফিরি, আমার মনে হয় , জীবনের শেষটা সবার যদি এই রঙীন ঝরা পাতাদের মতো এত সুন্দর হতো… উজ্বল হতো, তাহলে কি ভালোই না হতো! আসলে সব শেষ সুন্দর হয় , তা মোটেও না… আমরা শুধু চেষ্টা করে যাই , কখনো সফল , কখনো বা অসফল হই , কিন্তু ঐ যে চেষ্টা… ওটার নামই “জীবন”
নারী
আচ্ছা এই যে আমাদের সমাজে আমরা নারীকে ভগবানের আসনে, মায়ের আসনে বসিয়ে পুজো করি …কিন্তু আদতে কজন নারীর যোগ্য সম্মান দিই, মানে শুধু মানুষ হিসেবে? আজও এই যুগে দাঁড়িয়েও যখন দেখি বাড়িতে প্রথম সন্তান ছেলে হয়েছে বলে তার বেশি খাতির, বা পর পর দুটো মেয়ে হওয়ার পর আবারও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছে… যদি একটা ছেলে হয় বলে …সত্যি বলছি খুব খারাপ লাগে! আবার অনেকে তো ছেলে মেয়ে সমান মুখে বললেও , কাজের সময় দেখিয়ে দেয় তুই মেয়ে , তুই পরের বাড়ির আমানত … আসল তো আমার ছেলেই , মরার সময় সেই জল দেবে… হয়তো বা!
কিছু না , কদিন বাদে মা দুগ্গাকে ধুমধাম করে আমরা পুজো করবো, তাকে ঘরের মেয়ে বলে মা মা করে চিল্লাবো, কিন্তু পুজো হয়ে গেলে তাঁকে আরেক মায়ের ( গঙ্গা) কোল দূষিত করে সেই জলে ভাসিয়ে দেবো…মায়ের ছবি আঁকতে বসে এসবই ভাবছিলাম! সমাজে মেয়েদের দাম ঠিক ঐ রকমই, তাই বেশি ভেবে লাভ নেই , বেশি ভাবা বা উচিত কথা বলা মেয়েদেরও কেউ তেমন পছন্দ করেনা॥
তিলোত্তমাকে খোলা চিঠি
প্রিয় তিলোত্তমা,
অনেক কষ্ট পেয়ে তুমি পৃথিবী ছেড়েছো! অনেক ক্ষোভ, অনেক ঘৃনা, অনেক ব্যথা যন্ত্রণা মিশে ছিল , জানি…কিন্তু তুমি হয়তো জানো না, তোমার চলে যাওয়াটা আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখালো! এই স্বার্থপর , মেরুদন্ডহীন, ভীতু বাঙালীকে প্রতিবাদ করতে শেখালো! যারা আজ পথে নেমে তোমার জন্য #justiceforRGKar বলে গলা ফাটাচ্ছে, তারা তোমার কেউ নয় , কিন্তু তারা সবাই তোমায় কেউ দিদি, কেউ বোন বা কেউ মেয়ের আসনে বসিয়েছে। তুমি জীবন দিয়ে শিখিয়ে গেলে এখনো মনুষ্যত্ব মরে যায়নি , এখনো বেঁচে আছে ভালোবাসা । তুমি হয়তো ফিরবে না কোনদিন … কিন্তু মানুষ এই ঘটনা ও তার প্রতিবাদ মনে রাখবে! বিচারের ফলাফল কি হবে জানিনা, কিন্তু মানুষ কোনটা ঠিক , কোনটা ভুল বুঝতে পেরে গেছে , আর আশা করি সবাই মিলে ঠিক ন্যায় ছিনিয়ে নেবে।
ভালো থেকো তিলোত্তমা ।
পরজন্ম
নতুন সূর্য আলো দাও , আলো দাও ! গাছ সব সময় আলোর দিকে বাড়তে থাকে , কিন্তু মানুষ এক অদ্ভুত প্রাণী, সময়ে সে লাইম লাইটে আসার জন্য মরিয়া হয়ে আলোর অপচয় ঘটায়, আবার নিজের দোষ ঢাকতে অন্ধকারে লুকায় !
এমনিই ভাট বকলাম, আজকাল মাথায় প্রচুর ফালতু কথা আসে , কিন্তু এত কথার মাঝেও এখনো ঐ কথাটা বার বার মনে হয় , আমি পরজন্মে মানুষ নয়, গাছ হতে চাই … এত জটিলতা হামকো বিলকুল নাপসন্দ হ্যায় ![]()
অবহেলা
দোষটা আমাদের, আমরাই নোংরা জমছে দেখেও তা পরিষ্কার না করে পচন পর্যন্ত অপেক্ষা করি, কিন্তু ততদিনে পোকা জন্মে অন্য জায়গাতেও পচন ছড়িয়ে দেয়…

আপনার মুক্তগদ্য পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। কতগুলো সহজ কথা, অথচ ভীষণভাবে মূল্যবান। আপনাদের পুজো সংখ্যার সাফল্য কামনা করি।