ফুরফুরি
সম্বিতা দত্ত
আমদের জায়গা থেকে অনেক দূরে একটা খুব সুন্দর ফুল রাজ্য ছিল।সেখানে লাল ,নীল, হলুদ , বেগুনী সুগন্ধী ফুল ফুটে থাকত।সেই সুন্দর রাজ্যে থাকত নানা রঙের প্রজাপতি, ফড়িং , টিপ পোকারা। আর সেই খানে থাকত ছোট্ট ছোট্ট পরীরা। তাদের মধ্যে একটা ছোট্ট পরীর নাম ছিল ফুরফুরি।তার পাখনার রঙ ছিল সবুজ।সে অন্য সব পরীদের মতো ফুর ফুর করে উড়তে চাইত।কিন্তু তার ডানায় অত জোর ছিল না। সে উড়তে পারত না। প্রতিদিন সে তার ঘরের জানালার বাইরে তাকিয়ে তাকিয়ে অন্য পরীদের ডানা মেলে ফুলে ফুলে উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখতো আর তাদের খেলা করতে দেখতো।তা দেখে তার খুব মন খারাপ হোতো । কারন কেউ তার সাথে খেলা করতে চাইত না।সে উড়তে পারে না বলে সবাই তাকে দেখে হাসত। ফুরফুরির চোখে জল এল।সে আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু ভাবত কবে এমন দিন আসবে যেদিন সে অন্য সব পরীদের মতো আকাশে উড়ে যাবে। সবাই তার সাথে খেলবে ,মজা করবে। সে কাঁদতে কাঁদতে হাটতে হাটতে চলে এল সোনালী নদীর ধারে। ফুরফুরির মন খারাপ হলেই সে এখানে আসে চাঁদ মামাকে সব বলে।সোনালী নদীতে সোনালী রঙের জল কুল কুল আওয়াজ করে ভেসে চলেছে। ফুরফুরি সোনালী নদীর পাড়ে বসে আকাশের চাঁদ মামার পানে তাকিয়ে নিজের দুঃখের কথা গুলো চাঁদ মামাকে বলল।চাঁদমামা তাকে বলল , “ফুরফুরি তুমি মন খারাপ কোরো না। ফুল পাহাড়ে এক জাদুকরী থাকে।সে এই সমস্যার সমাধান জানে। কারন সে অনেক রকম জাদু জানে। একমাত্র সেই পারবে তোমার ডানা ঠিক করে দিতে।”
ফুরফুরি খুব খুশি হল। সে মনের আনন্দে সোনালী নদীর পাড়েই ঘুমিয়ে পড়ল ।যখন তার ঘুম ভাঙল সে দেখল আকাশে লাল রঙের সূর্য উঠছে। চাঁদ মামা ঘুমিয়ে পড়েছে ।সে খুব কাঁদতে লাগল আর খুব জোর গলায় ডাকতে লাগল ফুল পাহাড়ের যাদুকরীকে। সে ডাকল,”জাদুকরী ও ফুল পাহাড়ের যাদুকরী। তুমি তাড়াতাড়ি এসো। আমার বড্ড দুঃখ।”
ফুরফুরি দেখল নীল আকাশ সবুজ রঙে ভরে গেছে। ফুল পাহাড়ের জাদুকরী উড়তে উড়তে তারই কাছে আসছে। জাদুকরী তাকে বলল , “ শোন ফুরফুরি তুমি একদম মন খারাপ কোরো না। তুমি চোখের জল মুছে ফেল।তুমি আমার সাথে চল। আমি তোমার ডানা ঠিক করে দেব। তখন তুমি অন্য পরীদের মতো উড়তে পারবে।”
ফুরফুরি জাদুকরীর হাত ধরে উড়ে চলল অজানা দেশের উদ্দেশ্যে।আকাশ পথে ভাসতে ভাসতে তারা এসে পড়ল ফুল পাহাড়ের শেষে।জাদুকরী তার বাড়িতে ফুরফুরিকে নিয়ে এল। তারপর সে ফুরফুরির ডানায় এক হাড়ি জাদু মন্তর ঢালল।ফুরফুরির ডানা থেকে রামধনু রঙ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল ।ফুরফুরি দেখল তার ডানা দুটো অনেক হাল্কা হয়ে গেছে। অল্প হাওয়াতে সে উড়ে যাচ্ছে। এবার ধীরে ধীরে জাদুকরীর কাছে সে উড়তে শিখল। এই প্রথম সে সারাদিন ধরে একলা একলা উড়ে বেড়ালো ফুল বাগানে।তার আনন্দের এখন শেষ নেই।ফুরফুরি এখন খুব ভালো উড়তে পারে।একদিন জাদুকরীর হাত ধরে উড়তে উড়তে সে ফিরে এল তার দেশে। ফুল রাজ্যের সবাই দেখল ফুরফুরি ফিরে এসেছে।এখন সে খুব ভালো উড়তে পারে। ফুল পাহাড়ের জাদুকরী ফুরফুরিকে বলল, “ ফুরফুরি তুমি একটা কথা মনে রেখো এই পৃথিবীতে সবাই সমান। কেউ কিছু না পারলে তাকে দেখে কখোনো হাসবে না। বরং তাকে সাহায্য করবে।এগিয়ে যেতে। তাতে তুমিও এগিয়ে যাবে।”
ফুরফুরি মাথা নেড়ে বলল, “ হ্যা, বুঝেছি। আমি তাদের সাহায্য করব।কখোনো হাসব না।বরং সাহায্য করব। ফুল পাহাড়ের জাদুকরী ফুরফুরিকে বলল , তোমার মতো অনেক ফুরফুরিকে সাহায্য করতে হবে আমায়।তাই আমাকে যেতে হবে।ফুল পাহাড়ে কাছে বিদায় নিয়ে ফিরে গেল ফুল পাহাড়ে।ফুরফুরিকে সবাই ফুল রাজ্যের পরীদের রানী করে নিল। ফুল রাজ্যের সবাই এখন ফুরফুরিকে নিয়ে খুব খুশি। আর ফুরফুরিও এখন খুব খুশি । সে এখন ফুলে ফুলে উড়ে উড়ে অন্য পরীদের সাথে খেলে বেড়ায়।
