প্রবন্ধ

এগিয়ে যেতে সুস্থ মানুষের পদচারণাই প্রয়োজন ডিজিট্যাল স্পেসে

শুভজিৎ বোস

আজ মানুষকে মানুষ কতটুকু সম্মান করে?সম্মান জিনিসটা আজ কি উঠেই যাচ্ছে জীবনের সিলেবাস থেকে?অন্যের থেকে সম্মান পেতে হলে আগে অন্যকে সম্মান করা জরুরী।মানুষ আজ মানুষের কথা কতটুকু ভাবেন?যদি ভাবতেন তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে মানুষ এভাবে খ্যামটা নাচ নাচতেন না!সেই ধরণের মানুষগুলি আজ নোংরা কথার সামরিক সমরে নিজেকে জাহির করতে ব্যস্ত।সোশ্যাল মিডিয়া আজ অনেককে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি কষ্টও দেয়!তবে এর জন্য দায়ী সোশ্যাল মিডিয়া নয়,সেই মানুষগুলিই।প্রত্যেক মানুষই রক্তমাংসে গড়া প্রাণী,তা সে তারকা হোক,সেলেব্রিটি বা সাধারণ মানুষ।অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মানুষের ঘৃণ্য বেসাতি আচরণ নিয়ে যেভাবে সুস্থ সমাজকে লজ্জা পেতে হয়,তা আবেগ বা অনুভূতির সীমানা উলঙ্ঘন করে বইকি।যদি মানুষ আজ মানুষকে বন্ধু মনে করতো,তাহলে এভাবে দেদারসে বুলিং কি আপনারা করতে পারতেন?শিল্পী বা তারকাদের আপনারা যেভাবে ঝকমকে দেখেন দূর থেকে,তাদের জীবনেও কিন্তু সুখ,আহ্লাদ,ভালোবাসা,প্রেমের অনেকটা জায়গা আছে।আর রাগ,ভালো থাকা,মন্দ থাকা,আবেগ,অনুভূতি তাদেরও জীবনের এক একটি অংশ।তাহলে আপনাদের কথার বন্দুকে এরকম আক্রমণ কেন সহানুভূতিশীল,সংবেদনশীল মানুষদের প্রতি?

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এরকম নোংরা সাইবার বুলিং মোটেই কাঙ্খিত আচরণ নয়।এতে মানুষ নিজেদের সাথেই নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।কিন্তু যারা এরকম কদর্য আক্রমণ করে শব্দের শূল বিঁধিয়ে দিয়ে,মনের মধ্যে গাঢ় দাগ পড়ে যায়।তারা নিজেদের হিরো ভাবলেও একাজ তাদের উপরে ওঠায় না,বরং আমাদের সংস্কৃতিকে অনেকটা পেছনে ঠেলে দেয়।এই নোংরা কাজ নীচতাকেই প্রশ্রয় দেয় নগ্নতাকে ডেকে আনতে।নারীদের অভিনেত্রী,শিল্পী,সেলিব্রিটি হওয়ার দোষটা কোথায় একবার বলতে পারেন?তিনি তো নিজের যোগ্যতাতেই এ জায়গাটায় পৌঁছেছেন।আপনাদের মতো মানুষরা কি করেছেন?কোথায় পৌঁছেছেন আপনারা?আর সবার আগে তিনি একজন নারী,একজন মা।তাহলে মা দুর্গার অংশ একজন নারীকে বা একজন মা-কে আমরা বেসিক সম্মান জানানো আর কবে শিখব?হ্যাঁ পরিবার থেকে না পেলে সে কি করে শিখবে?কাজেই সকলকেই সচেতন হতে হবে।এই সাইবার বুলিং একটা শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে।এরপরও যারা এই ঘৃণ্য ও নোংরা কাজ অনায়াসে করে যাচ্ছে,মনে হয় তারা সমাজের কথা এক আনাও ভাবেন না,তাদের মানসিক সুস্থতার অভাবও এখানে প্রমাণিত।

অর্থাৎ সমষ্টিগত দিক দিয়ে এই মানসিক সমস্যা সমাজকে খোকলা করে দেবার আগে মনে রাখা উচিৎ অন্যকে সম্মান দিতে শেখা,নোংরা বাক্যশূল প্রয়োগ না করা,গালি-গালাজ না দেওয়া এটাই বাংলার সংস্কৃতি,যারা শিখেছে পরিবার থেকে তারা বলে না,বা তারা এ কাজ করে না।কিন্তু তারা একাজ বলছে বা করছে কেন?ডিজিট্যাল স্পেসে তো অন্তত একজন সুস্থ মানুষের পরিচয় দেই!কোটি কোটি মানুষ দেখছেন যে!আসুন না গঠণমূলক মন্তব্য করি,নির্মোহ সমালোচনা করি,তাতে তো সমাজের এবং শিল্পেরই লাভ,শিল্পী আর অভিনেত্রী-অভিনেতাদেরই লাভ।এটাই প্রত্যাশা হোক না?মানুষ হিসেবে একটু স্বস্তি পাই না আমরা!সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভালো কাজের ছাপ রাখতে চেষ্টা করে যাই না।ডিজিট্যাল স্পেসে,ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে সুস্থ মানুষের পদচারণাই তো কাঙ্খিত।দেশের শিল্প-সংস্কৃতিরই এতে জয়ের পথ মসৃণ হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *