আলাপন
মল্লিকা ধর
দিগন্ত থেকে দিগন্ত পর্যন্ত
বিছিয়ে পড়েছে আশ্চর্য গোধূলি-
মেঘে মেঘে অবর্ণনীয় আলোর আলাপন ।
এইসবের মধ্যে ফুটে ওঠে তোমার মুখ,
চোখের অপরূপ গভীর আকুলতা
অভিমানী ঠোঁট আর চিবুকের রেখা-
সেই তোমার বিদায়যাত্রার দিনে শেষবার দেখা ।
একঝাঁক পাখি নীড়ে ফিরছে
তাদের ডানার হাওয়া ছুঁয়ে যায়
আমার খোলা চুলের প্রান্ত ।
দক্ষিণ থেকে স্নিগ্ধ হাওয়া বইছে
তার মৃদু স্পর্শ যেন
অনুচ্চারিত ভালোবাসার মত কোমল ।
গোধূলির রঙ হেলে পড়তে থাকে
আরও আরও লালের দিকে-.
মধ্যবর্তী আকাশের বিপুল শূন্যতা
এক নিমেষে পার হয়ে যাই আমরা ।
আমাদের আলাপন চলতে থাকে,
অচেনা বিদ্যুতের নীল তরঙ্গে ।
★★★★★★★★
পরশমণি
মল্লিকা ধর
স্বপ্নপালক খুঁজছে আমায় তাই জেনে
সমস্ত রাত কান পেতেছি সাইরেনে ।
অন্ধকারে বন্ধ ছিল সব জবাব,
তিন প্রহরে যেই বেজেছে নীল রবাব
অমনি আগুন ভরলো সারা দিগন্তর-
কাজলরেখার গর্ভ থেকে পলাশভোর ।
কালপুরুষের পাশেই ছিল সাথীর ঘর
শিউলিভোরে ঝরতো সে ফুল উঠানভর ।
ঘুমের ভিতর ঝর্ণাকল
গুঁড়িয়ে দিল সব আগল
বললো ওকে এইবারে তুই অঝোর ঝর –
সেই যেখানে পরশমণির বকুল চর ।
বৃষ্টি ছিল গানের মতন ছন্দোময়
অরূপ ছিল রূপের সাথে দ্বন্দ্বময়,
ওড়নামেঘে উড়ে যেত সব হাসি
হাসির ভিটে অশ্রুজলে বানভাসি-
বুকের গহীন সাগরনীলে কী থরথর ! কাল পেরিয়ে চলল তরী কালান্তর ।
★★★★★★★★
মেঘছোঁয়া বাড়ি
মল্লিকা ধর
মাঠের কিনারে মেঘছোঁয়া বাড়ি
ছাদে রোদে মেলা টিয়ারঙ শাড়ি-
আঁচলে উড়ছে গল্প ।
চিলেকোঠা ঘরে নিঝুম দুপুরে
মগ্ন দু’চোখ সুদূরের সুরে
মায়াছবি কাঁপে অল্প ।
আলো আর ছায়া হাত ধরাধরি
গাঙিনীর স্রোতে ফুলে ভরা তরী-
চলে যাওয়া সব দিন ।
কেউ ভুলে যায়, কেউ মনে রাখে
মনে মনে কেউ আল্পনা আঁকে,
কোথা রয়ে গেল ঋণ?
মাঠের কিনারে মেঘছোঁয়া বাড়ি
রোদবৃষ্টির ভাব আর আড়ি-
বিকেলবেলার চায়ে ।
রুপো চাঁদ ওঠে পুবের বিতানে
উতলা আকুল তারই মায়াটানে
কে ভাসল কোন নায়ে?
★★★★★★★★
মেঘমল্লার
মল্লিকা ধর
রূপকথারা চুপ করেছে সব ঘুমে
স্বপ্ন-আখর লুকিয়ে পড়ে রুমঝুমে,
বনপলাশের গল্পগুলো মল্লারের এই মরশুমে
বৃষ্টিকণায় লিখছে চিঠি শালুকপাতার ভাতঘুমে ।
বর্ষা রিমঝিম ঝরে বনে,
বর্ষা রিমঝিম ঝরে মনে….
পাহাড়তলার সরলবনে তোমার ঘর
রুপো-ঝিলমিল বৃষ্টি ঝরে অঝোরঝোর ।
