আগমনী
পর্ণা ঘাঁটী
নীল আকাশের পেঁজা তুলোর মেঘেদের মেলা
শরৎ এর স্নিগ্ধ হাওয়ায়, কাশফুলের ই দোলা ।
শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাসে মজেছে আজ ধরা
পুজোর সাজে সমারোহে উৎসবে মাতোয়ারা ।।
পদ্ম কুড়ি পাঁপড়ি মেলে শিশির ভেজা ভোরে
আগমনের বাদ্যি বাজে; মনের অন্তঃপুরে ।
নতুন জামা নতুন ফিতে আলতা পেড়ে শাড়ি ।।
আনন্দেরই বান ভাসিয়ে দিচ্ছে সবাই পাড়ি
দুষ্টের দমন করো মাগো;এই কামনা করি।
অসুর দমন করবে তুমি এই আশাতেই মন ভরি ।।
ঢাকের বোলে উঠুক আজ ,রাক্ষস বধের প্রতিধ্বনি
মনে আঁধার সরিয়ে মাগো;জাগ্রত করো আলোর খনি।
হিমের পরশ মোড়ানো কত কাশবনের শুভ্রতায়
উচ্ছসিত মর্ত্যবাসী মায়ের আগমন বার্তায়।।
‘মা’ আসছে…
বাস্তবতা
রৌদ্র মাখা জনপথে হেঁটে চলি স্বপ্নের দিকে
ত্বকে যেন আঁচের চাড়ে, ক্ষত চিহ্ন দিচ্ছে এঁকে
হাজার স্বপ্ন বুকে রেখে, বাঁধছে কত সুখের বাসা
বাস্তবতার কঠিন মাঠে লড়াই করে, বাঁচার আশা।
বারংবার যত তুলছে মাথা নুঁইয়ে দিচ্ছে একটি ঠোকর
জিতবো যেদিন মস্ত ঘাটে বাঁধবো আমি নিজের নোঙর।
পথে পথে বেড়ায় চষে ছাদের চাঙড় পড়ছে খসে
দিনের পর দিন এগোলে জেদ যেন মাথায় বসে।
তিলতিলে বোনা স্বপ্ন গুলো আকাশ কবে পাবে ওড়ার?
সৎ পথে থেকে আমি হানবো একদিন খুশির জোঁয়ার
মন কেমনের দোটানা তে বলবো কোথা মনের ব্যাথা!
আপন মনে দুঃখ একেঁ, কাটছি শত খাতার পাতায়
দাবানলের বনের মাঝে আটকে যেন আমি একাই
ফুটছে গলা বলছে যেন ইচ্ছে আমার বেঁচে থাকার
যান্ত্রিকতার শিকল দিয়ে বাঁধছে কত মানুষের মন
দুঃখ কাহার শুনবে কেবা সময় যে নেই কিছুক্ষণ!
বদ্ধ ঘরের বিষন্নতা ডাকছে মনে; একাকীত্বের শহর
ভোগবিলাশের নেশায় মানুষ মানবিকতার নেই কোনো বহর।
গরীবের পেটে মারছে লাথি নিচ্ছে সব রক্ত শুষে
বিলাসবহুল মন গুলো সব,মরছে আজ টাকার বিষে
পেটের জ্বালা নিভছে না যে দুর্ভোগের এই শহরে
সুখের নেশায় মাতছে মানুষ; উড়ছে টাকা প্রতি প্রহরে।।
ভালো মানুষীর মুখোশধারী করছে দান সোশ্যাল মিডিয়ার চোখে
বুঝবে মানুষ দেখনদারি সেদিন জেগে উঠবে বিদ্রোহের ক্ষোভে।
অশিক্ষিতে’র দর কষাকষি শিক্ষিত রা পরছে ফাঁসি
বেঁচে থাকার লড়াই লড়তে মুছছে তাদের মুখের হাসি।।
