কবিতা

পদোন্নতি

পবিত্র আচার্য্য

আমাদের একটাই জন্ম একটাই মৃত্যু,

এই দুই প্রান্তিকবিন্দুর মাঝে প্রতিনিয়ত পাহাড় ডিঙ্গচ্ছি কত

পাহাড়ের ঢালে সূর্যাস্ত দেখে কত কী যে মনে হয়?

মেঘের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে ভেতরে কত কী যে হয়ে যায়?

ভালবাসি উড়ান, বিরামহিন গতি ও উত্তরণ

সবুজে ভেসে ভেসে শ্বাসখুঁজে ফেরি

তীব্র উত্তাপ, চিরচেনা একটা অন্ধকারের সরুগলি দিয়ে,

ছুটে যেতে চাই অনির্ণেয় উচ্চতায়

উত্তরণ সহজ বিষয় নয়, তাকে ঘিরে বিবিধ নিষেধ,

এক তীব্র আকাঙ্ঘার আপোষবাজী

মেনে নিতে হয় অনেক কিছু চড়াই উৎরাই , অচেনা কুয়াশা ও তীব্রউচাটন

অনেক মুহূর্ত ক্ষয় ছুঁয়ে বসে থাকি নিস্তব্দ পাথর এর উষ্ণতায়

জেগে উঠে ভীষণ নিঃসঙ্গ  ম্যানগ্রোভস্মৃতি

খাঁদ থেকে পড়ে যেতে যেতে মনে পড়ে ,

স্বপ্নের বরফগুলো  ঢেকে দিচ্ছে বাড়ি ফেরার দীর্ঘ পথটুকু

এই পাহাড়েই  আছে অসংখ্য ম্যাজিক

প্রতিদিন কত ম্যাজিশিয়ান হারিয়ে যাচ্ছে  গভীর প্রত্যাশায়।।

★★★★★★★★

প্রত্যাশা

পবিত্র আচার্য্য

পরিচিত মুখ দেখলেই  আমি সরে যাই

ছেঁড়া অন্ধকারে দুদণ্ড দাঁড়াই স্থির ছায়ার মতো

অনন্ত নীরবতার মধ্যে আমি হেঁটে যাই  

দেখি আমার শরীর ঘিরে দাম্ভিক পেঁচানো সাপেরা

আগুণের বলয় এর মধ্যে দাঁড়িয়ে  

উদাসীন পায়ে হাঁটতে হাঁটতে বিষণ্ণ স্মৃতির

                                   মাঝে দেখি আমার হামাগুড়ি

জানতে চাই কে শিখেয়েছে আমার চোখের মিথ্যে গভীরতা ?

কে বলেছে আমাকে ঈশ্বর হতে?

বুকের ভিতর তীব্র উচ্চতার পরিমাপ?

পাগলের মতো ছুটছি উমেদ ছুঁতে,

আস্তে আস্তে শরীর থেকে শিরদাঁড়া সরে যাচ্ছে

সেইসব মুখ ও বিষন্ন রৌদ্দুর দেখলেই ,

 আমি মাথাহীন, পিঠহীন, নেই-হাত-পা ভুখন্ডের মধ্যে চলে যাই

মনে হয় কতকাল শক্ত হয়ে দাঁড়াতে ভুলে গেছি।।